মোহাম্মদ ইদ্রিস॥
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া পৌর এলাকায় প্রাথমিক বিদ্যালয় স্থাপনের দাবিতে স্থানীয় বাসিন্দারা মানববন্ধন করেছেন। বৃহস্পতিবার সকালে বড়বাজার এলাকায় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সামনের সড়কে ঘণ্টাব্যাপী এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। এতে নারী-পুরুষসহ এলাকার নানা শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশগ্রহণ করেন।
মানববন্ধনে অংশগ্রহণকারীরা অভিযোগ করেন, ‘রাধানগর পৌর প্রাথমিক বিদ্যালয়’ নামে একটি বিদ্যালয় স্থাপনের ঘোষণা দিয়েছিল পৌরসভা। সেই অনুযায়ী সরকারি জমিতে একটি সাইনবোর্ড টানানোও হয়। এলাকাবাসীর প্রত্যাশা ছিল, অবশেষে পাঁচটি ওয়ার্ডের শিশুদের জন্য একটি সরকারি বিদ্যালয়ের যাত্রা শুরু হবে। কিন্তু বাস্তবে তার উল্টো চিত্র দেখা গেছে।
সাইনবোর্ড টানানোর জায়গায় এখন গড়ে উঠেছে দোকানপাট। সরকারি খাসজমি ভরাট করে সেখানে টিনের ঘর তোলা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, পূর্ব পরিকল্পনা অনুযায়ী বিদ্যালয় নির্মাণের জন্য যে জলাশয় ভরাট হয়েছিল, তা এখন ব্যক্তিগত মালিকানায় চলে যাচ্ছে।
স্থানীয় বাসিন্দা আব্দুল মালেক ও মো. ওয়াসিম জানান, সরকারি জায়গা ও আশপাশের জমি দখল করে ব্যক্তি মালিকানায় ব্যবসা প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলা হয়েছে। তারা বলেন, “আমরা চাই ছিলাম এখানে একটি স্কুল হোক, কিন্তু এখন আন্দোলনের কারণে আমাদের বিভিন্নভাবে হয়রানি করা হচ্ছে। অথচ বিদ্যালয় স্থাপন ছিল একটি কমিউনিটির মৌলিক দাবি।”
মো. আব্দুল আউয়াল নামে এক প্রবীণ বাসিন্দা বলেন, “আমরা বহুদিন ধরে শুনে আসছি এখানে একটি সরকারি বিদ্যালয় হবে। এখন দেখি, সেই সাইনবোর্ডও তুলে ফেলা হয়েছে। জায়গা বালু দিয়ে ভরাট করে চারপাশে টিন দিয়ে ঘিরে ফেলা হয়েছে। এটা খুবই হতাশাজনক।”
এলাকাবাসীর দাবি অনুযায়ী, বিদ্যালয়ের জন্য প্রয়োজনীয় জমি কিনতে সাবেক পৌর মেয়র একটি পক্ষের সঙ্গে আলোচনা করেছিলেন। তারা জানায়, সেসময় ১০ শতাংশ জমি বিদ্যালয়ের জন্য বরাদ্দ রাখার কথা ছিল, কিন্তু পরে আর কোনো অগ্রগতি দেখা যায়নি। এখন সেই জায়গাতেও ব্যক্তিগত স্থাপনা গড়ে তোলা হচ্ছে।
দেবগ্রামের বাসিন্দা মো. হারুনূর রশিদ ভূঁইয়া বলেন, “আমরা জমির বায়নাপত্র করেছিলাম, কিন্তু সাবেক মেয়র বিদ্যালয়ের জন্য আর জমি কেনেননি। শুধু একটি সাইনবোর্ড টানিয়েই দায় শেষ করেছিলেন।”
মানববন্ধনে অংশগ্রহণকারীরা জানান, তারা শিগগিরই আখাউড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) বরাবর স্মারকলিপি প্রদান করবেন। তাদের একটাই দাবি-সরকারি জায়গা দখলমুক্ত করে অবিলম্বে বিদ্যালয় স্থাপন নিশ্চিত করা হোক।
আখাউড়া পৌর এলাকার এই প্রাথমিক বিদ্যালয় স্থাপনের বিষয়টি শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের দাবি নয়-এটি একটি এলাকার ভবিষ্যতের সঙ্গে জড়িত। সরকারি জমি দখলের সংস্কৃতি আর প্রতিশ্রুতির রাজনীতি এখানে শিক্ষার মতো মৌলিক অধিকারকেও হুমকির মুখে ঠেলে দিয়েছে। এখন দেখার পালা-প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কী উদ্যোগ নেয়, নাকি এটিও থেকে যাবে আরেকটি হারিয়ে যাওয়া আশার গল্প হিসেবে।
