ডেস্ক: দুবাই আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে আজকের দিনটি বাংলাদেশের জন্য স্বপ্নের ফাইনালের পথে শেষ ধাপ। অলিখিত সেমিফাইনালে পাকিস্তানকে শুরু থেকেই চাপে রাখে টাইগার বোলাররা। আজ টস জিতে বোলিং নেওয়া সিদ্ধান্ত যে কতটা সঠিক ছিল, তা প্রমাণ করলেন তাসকিন আহমেদ, মুস্তাফিজুর রহমান, শেখ মেহেদী হাসান ও রিশাদ হোসেনরা। শুরু থেকেই আগ্রাসী বোলিংয়ে পাকিস্তানকে পিছিয়ে দেওয়া হয়।
শাহীন আফ্রিদি ১৩ বলে ১৯ রান করেও আর দলের অবস্থান বদলাতে পারেনি। মোহাম্মদ হারিস ও মোহাম্মদ নওয়াজ কিছুটা প্রতিরোধ গড়লেও, শেষ পর্যন্ত পাকিস্তান ২০ ওভারে ৮ উইকেট হারিয়ে মাত্র ১৩৫ রান সংগ্রহে থেমে যায়। ফাহিম আশরাফের ১৪ রান ব্যতীত কেউ বড় সংগ্রহ করতে পারেনি।
প্রথম ওভারেই ওপেনার সাহিবজাদা ফারহান ফিরিয়ে দেন তাসকিন। তিন নম্বরে নামা সাইম আইয়ুবকে ফেরান শেখ মেহেদী, আর পাওয়ারপ্লেতে ধুঁকতে থাকা ফখর জামানকে আউট করেন রিশাদ হোসেন। হুসাইন তালাতকেও ফেরান রিশাদ, এবং অধিনায়ক সালমান আলী আঘাকে বিদায় দেন মুস্তাফিজ। ৪৯ রানের মধ্যে পাকিস্তানের ৫ উইকেট চলে গেছে, পরিস্থিতি ছিল ভয়ঙ্কর।
বাংলাদেশের বোলারদের মধ্যে তাসকিন আহমেদ ৩ উইকেট নিয়ে ছিলেন সেরা। তিনি আজকের সঙ্গে আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে ১০০ উইকেটের মাইলফলকও স্পর্শ করেছেন। ২টি করে উইকেট নেন শেখ মেহেদী ও রিশাদ, আর ১ উইকেট নেন মুস্তাফিজুর রহমান। এই অর্জন তাঁকে দেশের তৃতীয় ক্রিকেটার হিসেবে এই মাইলফলকে পৌঁছে দেয়।
২০১৪ সালে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে অভিষেকের পর থেকে তাসকিন ধীরে ধীরে বাংলাদেশের বোলিং আক্রমণের গুরুত্বপূর্ণ সদস্যে পরিণত হয়েছেন। পাকিস্তানের ব্যাটিং লাইন ভেঙে দিয়ে আজ তার দক্ষতা আবারও প্রমাণ হলো।
এখন বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানদের দায়িত্ব ১৩৬ রানের লক্ষ্য পূরণ করা। জয় মানেই স্বপ্নের ফাইনালে ভারতের সঙ্গে মুখোমুখি হওয়ার সুযোগ। দুবাইয়ের এই উত্তেজনাপূর্ণ রাত শেষ পর্যন্ত দেখাবে, কে হাসবে-লাল-সবুজ শিবির নাকি পাকিস্তান।
