নিজস্ব প্রতিবেদক
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আশুগঞ্জ থেকে শুরু করে বিশ্বরোড পর্যন্ত মাত্র কয়েক কিলোমিটার পথ-কিন্তু এই পথই এখন লাখো মানুষের কাছে যন্ত্রণার আরেক নাম। প্রতিদিন ঘণ্টার পর ঘণ্টা স্থবির হয়ে থাকে এ মহাসড়ক। একদিকে জনদুর্ভোগ, অন্যদিকে বিপর্যয়ের মুখে জেলার পরিবহন খাত। এই যানজটের মূল কারণ হিসেবে চিহ্নিত হচ্ছে অবাধে চলাচল করা সিএনজি অটোরিকশা, ব্যাটারিচালিত ইজিবাইক, রিকশা ও মালবাহী ভটভটি। মহাসড়কের মতো জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ রুটে এ ধরনের ত্রিচক্রযানের চলাচল স্পষ্টতই আইনবিরোধী, তবু প্রশাসনের কার্যকর নিয়ন্ত্রণ না থাকায় তা নিয়েই চলছে অসহনীয় নৈরাজ্য। ঢাকামুখী যাত্রীরা অভিযোগ করছেন, সকাল-বিকাল এই সড়কে আটকে থেকে অফিসগামী, শিক্ষার্থী, রোগী, এমনকি জরুরি সেবার গাড়িও সময়মতো গন্তব্যে পৌঁছাতে পারছে না। সবচেয়ে বিপদের মুখে পড়ছেন রোগীবাহী অ্যাম্বুলেন্সযাত্রী ও তাদের স্বজনরা। যানজটে ঘণ্টার পর ঘণ্টা আটকে থেকে অনেক রোগী গুরুতর শারীরিক ক্ষতির শিকার হচ্ছেন, কেউ কেউ মৃত্যুবরণও করছেন বলে স্থানীয়দের অভিযোগ। পরিস্থিতি শুধু সামাজিক নয়, প্রকাশ্য অর্থনৈতিক সংকটেও রূপ নিচ্ছে। পরিবহন ব্যবসায়ী সংগঠন জেলা বাস মিনিবাস মালিক সমিতির সভাপতি হাজী মো.জসিম উদ্দিন জমসেদ বলছেন, আশুগঞ্জসহ পুরো ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার লোকাল বাস, দূরপাল্লার পরিবহন এবং পণ্য পরিবহন সেবা চরমভাবে ব্যাহত হচ্ছে। যাত্রী সময়মতো পৌঁছাতে না পারায় আস্থা হারাচ্ছেন পরিবহন ব্যবস্থায়। ফলে ব্যস্ত এই মহাসড়কে পরিবহন খাতে নেমেছে স্থবিরতা। এছাড়া নিয়মিত সময়ের চেয়ে দ্বিগুণ সময় লাগায় পণ্য পরিবহন খরচ বেড়ে গেছে। অনেক চালক এ রুটেই আসতে চান না। একইসাথে লোকসানে পড়ছে পণ্য সরবরাহ চেইন, কমছে আঞ্চলিক বিনিয়োগের আগ্রহ।
নির্বাচন সামনে, ফেসবুকে ক্ষোভের বিস্ফোরণ: জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে স্থানীয় নেতাদের ভূমিকা নিয়ে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়েছে। ফেসবুকজুড়ে ভেসে বেড়াচ্ছে হাজারো স্ট্যাটাস, ভিডিও, লাইভ-যেখানে মানুষ বলছেন, “শুধু ফিতা কেটে ছবি তোলেন না, একবার এই রোডে আটকে থেকে দেখুন!” তরুণ প্রজন্ম বলছে, ‘এই সমস্যা সমাধান না হলে ভোট নয়’-এই স্লোগানও এখন রাস্তায় রাস্তায়। দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি, দৃষ্টি আকর্ষণ সরকারের সর্বোচ্চ মহলে: স্থানীয় বিশিষ্টজন, ব্যবসায়ী, শিক্ষক ও সচেতন নাগরিকরা বলছেন, এই পরিস্থিতির স্থায়ী সমাধানে প্রয়োজন। ত্রিচক্রযান মহাসড়কে চলাচল নিষিদ্ধ ও বিকল্প রুটে স্থানান্তর। আশুগঞ্জ-ভৈরব অংশে ট্রাফিক পুলিশের কঠোর উপস্থিতি। আধুনিক বাস টার্মিনাল ও যাত্রীছাউনির উন্নয়ন। স্থানীয় প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধিদের সমন্বিত পদক্ষেপ। নিয়মিত মনিটরিং টিম গঠন ও মোবাইল কোর্টের ব্যবস্থা। এখনই ব্যবস্থা না নিলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যেতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা। এই জরুরি অবস্থা নিরসনে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়, সড়ক ও জনপথ বিভাগ, সড়ক পরিবহন মন্ত্রণালয় এবং সংশ্লিষ্ট প্রশাসনিক কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন এলাকাবাসী। একটা অঞ্চলের মানুষের প্রতিদিনের ভোগান্তি আর অর্থনৈতিক বিপর্যয় কতটা গভীর হতে পারে, আশুগঞ্জ-ভৈরব বিশ্বরোড তার প্রমাণ। সময় এসেছে, কথার রাজনীতি নয়-দৃশ্যমান পদক্ষেপের।
