মোহাম্মদ ইদ্রিস॥
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাঞ্ছারামপুর উপজেলার ডোমরাকান্দি (নবীপুর) গ্রামে রাতের আঁধারে পুরোনো ব্যাটারি পুড়িয়ে অবৈধভাবে সিসা তৈরি করা হচ্ছে। ফলে এলাকায় ছড়িয়ে পড়ছে বিষাক্ত ধোঁয়া ও গ্যাস, যা মানুষের স্বাস্থ্য ও পরিবেশের জন্য মারাত্মক হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। শ্বাসকষ্টসহ বিভিন্ন জটিল রোগে আক্রান্ত হচ্ছেন এলাকাবাসী। এছাড়াও কৃষিজমি, নদী ও জলজ প্রাণীকুল চরম বিপর্যয়ের মুখে পড়েছে। স্থানীয় কয়েকজন প্রভাবশালা- সাইফুল ইসলাম ও তার অংশীদার ওবায়দুল্লাহ ও জাহাঙ্গীর, পরিবেশ অধিদপ্তরের অনুমতি ছাড়াই এই কার্যক্রম পরিচালনা করছেন-এমনটাই জানালেন এলাকাবাসী। তারা জানান-রাতে ট্রাকভর্তি পুরোনো ব্যাটারি এনে খোলা জায়গায় আগুনে পোড়ানো হয়। কাজটি চলছে গত ৫-৬ মাস ধরে। মালিক স্বীকার করেছেন, তাদের ট্রেড লাইসেন্স থাকলেও পরিবেশ অধিদপ্তরের অনুমোদন নেই। এদিকে, শ্রমিকরা কোনো ধরনের সুরক্ষা ছাড়া খোলা জায়গায় ব্যাটারি পোড়াচ্ছেন, যার ফলে নির্গত বিষাক্ত গ্যাস ও ধোঁয়া বাতাসে মিশে পড়ছে। এলাকার মানুষ, বিশেষ করে শিশু ও বয়স্করা, শ্বাসকষ্টসহ নানা রোগে ভুগছেন। স্থানীয় এক বাসিন্দা জানান, তার বাড়ির আশেপাশে এই কারখানার কারণে শিশুদের মধ্যে শ্বাসকষ্ট ও ত্বকজনিত রোগ বেড়েছে। এলাকাবাসী জানান, যারা এই অবৈধ কার্যক্রমের বিরুদ্ধে মুখ খুলেছেন, তাদের হুমকি, মামলা ও হামলার ভয় দেখানো হচ্ছে।
বাঞ্ছারামপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আল মামুন গণমাধ্যমকে জানান, সিসা মাটি ও ফসলের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর। এই দূষণের কারণে তিন ফসলি জমিতে উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে এবং ফসল বিষাক্ত হয়ে পড়ছে। নদী- প্রাণ ও প্রকৃতি সুরক্ষা সংগঠন ‘তরী বাংলাদেশ’-এর আহবায়ক শামীম আহমেদ ডেইলি প্রেজেন্ট টাইমস-কে বলেন, পোড়ানো ব্যাটারির অ্যাসিড ও রাসায়নিক বর্জ্য নদীর পানিতে মিশে তা পানিতে মারাত্মকভাবে বিষাক্ত করে তুলছে। এতে জলজপ্রাণী মারা যাচ্ছে এবং এই পানি ব্যবহারে মানুষ ও গৃহপালিত পশু মারাত্মক রোগে আক্রান্ত হচ্ছে। এটি যত তাড়াতাড়ি বন্ধ হয় ততোই মঙ্গল বলে জানান তিনি। ব্রাহ্মণবাড়িয়া সরকারি মহিলা কলেজের অধ্যাপক মুসলেম উদ্দিন সাগর ডেইলি প্রেজেন্ট টাইমস-কে বলেন, মানুষ ও পরিবেশ রক্ষা আমার প্রথম অগ্রাধিকার। কাজেই পরিবেশ বাঁচাতেই হবে-মানুষ ও প্রাণীর অস্তিত্বের স্বার্থে। বাঞ্ছারামপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার ফেরদৌস আরা গণমাধ্যমকে জানান, অবৈধ কারখানা বন্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
