ডেস্ক: বনানীতে প্রাইম এশিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী জাহিদুল ইসলাম পারভেজ হত্যার ঘটনায় এখন পর্যন্ত চারজন গ্রেফতার হয়েছেন। যাদের কেন্দ্র করে ঘটনার সূত্রপাত এবং এই হত্যাকাণ্ড- সেই দুই বান্ধবীকে হন্যে হয়ে খুঁজছে পুলিশ। তাদের কাছ থেকেই গুরুত্বপূর্ণ ‘ক্লু’ পাওয়া যাবে মনে করছেন তদন্ত সংশ্লিষ্টরা।
শনিবার (১৯ এপ্রিল) বিকেল সাড়ে ৪টায় ইউনিভার্সিটি অব স্কলার্সের দুই ছাত্রীকে উত্যক্ত করার অভিযোগে জাহিদুল ইসলাম পারভেজের সঙ্গে তর্কাতর্কি হয় তাঁরই বিশ্ববিদ্যালয়ের তিন শিক্ষার্থীর। একপর্যায়ে দুই পক্ষকে নিয়ে মীমাংসার জন্য বসে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।
তবে ক্যাম্পাস থেকে বের হওয়ার পর টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং ২২৩ ব্যাচের শিক্ষার্থী জাহিদুলকে একদল যুবক ছুরিকাঘাত করে। গুরুতর আহত অবস্থায় জাহিদুলকে কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
রবিবার (২০ এপ্রিল) ভোরে প্রাইম এশিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ও বহিরাগতসহ ৮ জনের নাম উল্লেখ করে বনানী থানায় মামলা করেন পারভেজের ভাই হুমায়ুন কবির।
হত্যাকাণ্ডের তিনদিন পেরিয়ে গেলেও যাদের কেন্দ্র করে হত্যাকাণ্ড ঘটেছে সেই দুই ছাত্রীকে খুঁজে পায়নি পুলিশ। ওই দুই ছাত্রীকে খুঁজে পেলে হত্যাকাণ্ডের রহস্য উন্মোচন এবং ঘটনার অন্তরালে কোনো ঘটনা ছিল কি না সেসব বিষয়েও জানা যাবে।
পুলিশ বলছে, পারভেজ হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় চারজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এদের মধ্যে একজন এজাহারভুক্ত আসামি। বাকি তিনজন এজাহারভুক্ত না হলেও হত্যাকাণ্ডের সময় তাদের সিসি ক্যামেরার ফুটেজে দেখা গেছে। তারা এখন রিমান্ডে।
ওই দুই ছাত্রীর খোঁজ পাচ্ছে না বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ
পারভেজ হত্যাকাণ্ডের দ্বিতীয় দিনের মাথায় ইউনিভার্সিটি অব স্কলার্সের ব্যবসায় প্রশাসন ও ইংরেজি বিভাগের ওই দুই ছাত্রীকে সাময়িক বহিষ্কার করা হয়েছে।
সিসি ক্যামেরার ফুটেজ ও প্রত্যক্ষদর্শীদের সাক্ষ্যে হত্যাকাণ্ডে এ তিনজনের সংশ্লিষ্টতার প্রমাণ পাওয়া গেছে। গ্রেফতার তিনজন এজাহারভুক্ত আসামিদের পরিচিত। তাদের মাধ্যমে হত্যায় জড়িত পলাতক আসামিদের অবস্থান শনাক্তের চেষ্টা চলছে।- বনানী থানার ওসি মো. রাসেল সরোয়ার
ইউনিভার্সিটি অব স্কলার্স বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, তদন্ত চলাকালে প্রক্টরিয়াল কমিটির সদস্যরা বহিষ্কৃত দুই শিক্ষার্থীর সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করলেও সফল হননি। ফলে তাদের সরাসরি কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। বাহ্যিক পরিস্থিতি বিবেচনায় এবং তদন্তের স্বার্থে পুলিশি প্রতিবেদন বা চূড়ান্ত তদন্ত রিপোর্ট না পাওয়া পর্যন্ত তাদের ছাত্রত্ব সাময়িকভাবে স্থগিত থাকবে।
খুঁজে পাচ্ছে না পুলিশও
মামলার তদন্ত অগ্রগতির কাজে ওই দুই ছাত্রীকে প্রয়োজন বলে মনে করেন পুলিশের তদন্তকারী কর্মকর্তারা। তদন্ত সংশ্লিষ্টরা বলছেন, দুই ছাত্রীকে পাওয়া গেলে তদন্তের বেশকিছু জট খুলবে। হাসাহাসির কথা বলা হচ্ছে- সেটার শুরু কীভাবে এবং এর আগে কোনো ঝামেলা তাদের মধ্যে ছিল কি না সেটিও তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।
