নিজস্ব প্রতিবেদক॥
ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় সিএনজি অটোরিকশাচালকরা তাঁদের বিভিন্ন দাবি-দাওয়া আদায়ের লক্ষ্যে ধর্মঘট পালন করছেন। শ্রমিকদের নিজ অধিকার ও দাবি আদায়ের জন্য শান্তিপূর্ণ আন্দোলনের অধিকার রয়েছে-এটি একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের অন্যতম ভিত্তি। তবে উদ্বেগজনকভাবে দেখা যাচ্ছে, এই ধর্মঘট চলাকালে ধর্মঘটকারীরা জেলার বিভিন্ন স্থানে অন্য যানবাহনের চলাচলে বাধা দিচ্ছেন, কোথাও কোথাও হয়রানির ঘটনাও ঘটেছে। এ ধরনের আচরণ যেমন আইনসম্মত নয়, তেমনি তা জনস্বার্থের পরিপন্থীও।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া একটি গুরুত্বপূর্ণ জেলা শহর। এখানকার মানুষ প্রতিদিন নানা প্রয়োজনে বাস, রিকশা, মোটরসাইকেল, অ্যাপভিত্তিক যানবাহনসহ বিভিন্ন মাধ্যমে যাতায়াত করেন। সিএনজি অটোরিকশা বন্ধ থাকায় যাত্রীরা বিকল্প পরিবহনের ওপর নির্ভর করতে বাধ্য হচ্ছেন। অথচ ধর্মঘটকারীরা সেই বিকল্প পরিবহনেও বাধা দিচ্ছেন, এমনকি কোথাও কোথাও তা ভাঙচুর ও হুমকির পর্যায়েও পৌঁছেছে বলে খবর পাওয়া যাচ্ছে।
এই ধরনের আচরণ শুধু জনজীবনে ভোগান্তি বাড়ায় না, বরং শ্রমিকদের ন্যায্য দাবির প্রতি মানুষের সহানুভূতিও নষ্ট করে দেয়। জনগণের দুর্ভোগ সৃষ্টি করে কোনো দাবি আদায় সম্ভব নয়-বরং শান্তিপূর্ণ ও শৃঙ্খলাপূর্ণ পন্থায় আন্দোলনই সর্বোত্তম।
আমরা মনে করি, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সিএনজি চালক ও মালিক সংগঠনগুলোকে দায়িত্বশীল আচরণ করতে হবে। ধর্মঘট হোক শান্তিপূর্ণ, আইন মেনে, এবং অন্যের চলাচলের অধিকার নিশ্চিত রেখে। অন্যদিকে, প্রশাসনের পক্ষ থেকেও দ্রুত বিষয়টি আলোচনার মাধ্যমে সমাধানে উদ্যোগ নিতে হবে যাতে পরিস্থিতি আরও অবনতির দিকে না যায়।
সবশেষে বলা প্রয়োজন, গণতান্ত্রিক আন্দোলন তখনই সফল হয়, যখন তা নিয়মতান্ত্রিক পথে এবং জনভোগান্তি এড়িয়ে পরিচালিত হয়। অন্যথায়, আন্দোলনের মূল উদ্দেশ্যই হারিয়ে যায় বিশৃঙ্খলার মধ্যে।
