নিজস্ব প্রতিবেদক॥
সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে হত্যাচেষ্টা মামলার অন্যতম দুই আসামি ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর উপজেলায় প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াচ্ছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। অভিযুক্তরা হলেন- আব্দুল আউয়াল এবং জাকারুল হক। দিনের পর দিন তারা এলাকায় অবাধে চলাফেরা করলেও আইনানুগ ব্যবস্থা না নেওয়ায় স্থানীয় রাজনৈতিক মহল ও সাধারণ মানুষের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে।
জানা গেছে, উপজেলার উরখুলিয়া গ্রামের মৃত আব্দুর রাজ্জাকের ছেলে আব্দুল আউয়াল এবং বিদ্দাকুট ইউনিয়ন এর জাকারুল হক দীর্ঘদিন ধরেই নিজ এলাকাসহ নবীনগরের বিভিন্ন স্থানে প্রকাশ্যে চলাফেরা করছেন। এমন একটি স্পর্শকাতর মামলার আসামিরা গ্রেপ্তার না হওয়ায় দেশের বিচার ব্যবস্থা ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয়রা।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, আইনের চোখে পলাতক এমন গুরুত্বপূর্ণ মামলার আসামি প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়ালেও প্রশাসন কোনো ব্যবস্থা নিচ্ছে না। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক স্থানীয় বাসিন্দা বলেন, “আইনের চোখে সবাই সমান হওয়া উচিত। একজন অভিযুক্ত ব্যক্তি যদি দিনের পর দিন এভাবে ঘুরে বেড়াতে পারেন, তাহলে দেশের বিচার ব্যবস্থা ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ওপর থেকে মানুষের আস্থা কমে যায়।”
মামলা সূত্রে জানা যায়, এই ঘটনাটি নিয়ে ঢাকার শাহবাগ থানায় গত ২৩ নভেম্বর ২০২৪ তারিখে একটি মামলা (মামলা নং-৩৩) দায়ের করা হয়।
অপর মামলাটি করা হয়েছে বাড্ডা থানায় ২০ নভেম্বর ২০২৪ তারিখে মামলা নং-১৬।
এ বিষয়ে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা (আইও) শাহবাগ থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) ইয়ামিন বলেন, “আমরা আসামিদের গ্রেপ্তারের জন্য তাদের নিজ এলাকা অর্থাৎ নবীনগর থানাকে অবগত করেছি।”
তবে এ বিষয়ে নবীনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহানূর বক্তব্য ভিন্ন। তিনি বলেন, “আমাদের কাছে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক আদেশ আসেনি। আদেশ আসলে অবশ্যই আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।” দুই থানার এই ভিন্ন বক্তব্যে আসামিদের গ্রেপ্তারের বিষয়টি দীর্ঘায়িত হচ্ছে বলে মনে করছেন অনেকে।
প্রসঙ্গত, সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার ওপর হামলার ঘটনায় একাধিক মামলা চলমান রয়েছে। এসব মামলার অনেক আসামি পলাতক থাকলেও কেউ কেউ আইনের ফাঁক গলে এলাকায় প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। এলাকার সচেতন মহল ও সাধারণ জনগণ অবিলম্বে এই আসামিদের গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনার জন্য প্রশাসনের দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
