বিশেষ প্রতিনিধি॥
ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৩ (সদর-বিজয়নগর) আসনের সীমানা পুনর্বিন্যাসের প্রতিবাদে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বিজয়নগর উপজেলায় বিক্ষোভ ও সড়ক অবরোধ কর্মসূচি পালন করেছেন বিক্ষুব্ধ এলাকাবাসী। বুধবার (২০ আগস্ট) বেলা ১১টার দিকে উপজেলার চান্দুরা এলাকায় ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক অবরোধ করেন তারা। নির্বাচন কমিশনের সদ্য প্রকাশিত খসড়া গেজেট অনুযায়ী, ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৩ আসনের আওতায় থাকা বিজয়নগর উপজেলার তিনটি ইউনিয়ন- হরষপুর, চান্দুরা ও বুধন্তিকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ (সরাইল-আশুগঞ্জ) আসনে যুক্ত করা হয়েছে। এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ করে আন্দোলনে নামেন স্থানীয়রা। বিজয়নগরের সর্বদলীয় সংগ্রাম পরিষদের আহ্বায়ক মো. ইমাম হোসেন বলেন, ‘বিজয়নগরের ১০টি ইউনিয়নের মধ্যে এই তিনটি ইউনিয়নে প্রায় ৯৬ হাজার ভোটার রয়েছেন, যা পুরো উপজেলার ভোটারের প্রায় অর্ধেক। এই জনবহুল উপজেলা একক সংসদীয় আসনের যোগ্য হলেও রাজনৈতিকভাবে একবার সদর, একবার সরাইল, আবার কখনো নাসিরনগরের সঙ্গে যুক্ত করে আমাদের অবহেলার শিকার করা হচ্ছে। এই বৈষম্য আমরা মেনে নেব না।
উপজেলা হেফাজতে ইসলামের সাধারণ সম্পাদক মাওলানা আফজাল হোসেন বলেন, ‘আমরা সদর আসনে ছিলাম এবং সেখানেই থাকতে চাই। আমাদের দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চলবে।’ শ্রমিক নেতা আব্দুল কাদির বলেন, ‘স্বাধীনতার ৫৪ বছর পরও বিজয়নগরে কাঙ্ক্ষিত উন্নয়ন হয়নি। এটি রাজনৈতিক ষড়যন্ত্রের ফল। এবার আবার তিনটি ইউনিয়ন সরাইল আসনের সঙ্গে যুক্ত করায় মানুষ ক্ষুব্ধ হয়ে সড়কে নেমেছে।’ সকালের এই অবরোধের ফলে ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের দুপাশে ২০ কিলোমিটার এলাকা জুড়ে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়। এতে বিপাকে পড়েন হাজারো যাত্রী ও চালক। ঢাকা থেকে সিলেটগামী যাত্রী মো. হুমায়ুন বলেন, ‘আমি প্রায় তিন ঘণ্টা ধরে চান্দুরা এলাকায় আটকে আছি। প্রচণ্ড ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে।’ অন্যদিকে, অসুস্থ সন্তানকে নিয়ে ঢাকা থেকে চিকিৎসা শেষে সিলেটে ফেরার পথে আটকা পড়েন মিতালী পরিবহনের যাত্রী সেলিনা বেগম। তিনি বলেন, ‘বাচ্চা অসুস্থ হয়ে পড়েছে। তিন ঘণ্টা ধরে বাসে বসে আছি। আন্দোলন করা যেকোনো নাগরিকের অধিকার, তবে সেটা সড়ক অবরোধ না করে ভিন্নভাবে করা উচিত।’ বিজয়নগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শহিদুল ইসলাম বলেন, ‘আমরা আন্দোলনকারীদের অনুরোধ করেছি এবং তাদের দাবি যথাযথ কর্তৃপক্ষকে জানানো হবে বলে আশ্বাস দিয়েছি। জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকেও অনুরোধ জানানো হলে অবশেষে অবরোধ তুলে নেন আন্দোলনকারীরা।’ প্রসঙ্গত, গত ৩০ জুলাই নির্বাচন কমিশন জাতীয় সংসদের ৪০টি আসনের সীমানা পুনঃনির্ধারণ করে একটি খসড়া গেজেট প্রকাশ করে। এই তালিকার বিরুদ্ধে আপত্তি ও দাবি দাখিলের শেষ সময় ১০ আগস্ট এবং চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশের কথা রয়েছে ২৪ আগস্ট।
