রুদ্র মোহাম্মদ ইদ্রিস॥
“আমরা কেমন আছি?”এই প্রশ্নটি অনেক সময়েই সামাজিক সৌজন্য রক্ষার খাতিরে করা হয়। উত্তরটা সাধারণত হয়, “ভালো আছি।” কিন্তু কখনো কি আমরা থেমে ভেবে দেখি-আসলে আমরা কতোটা ভালো আছি? ভালো থাকাকে কীভাবে সংজ্ঞায়িত করব? সত্যিই কি ভালো থাকা বলতে যা বোঝায়, তা আমাদের জীবনে আছে?
ভালো থাকা মানে কি শুধু শারীরিক সুস্থতা?
অনেকেই ভাবেন, শরীর যদি ভালো থাকে, তাহলেই আমরা ভালো আছি। কিন্তু বিষয়টা কি এতটা সরল? একটা মানুষ শারীরিকভাবে সুস্থ হলেও মানসিকভাবে যদি অস্থির থাকে, চিন্তায় জর্জরিত থাকে, তাহলে কি তাকে সত্যিই ভালো বলা যায়? অনিদ্রা, উদ্বেগ, একাকিত্ব, হতাশা-এসবের মাঝে ডুবে থাকলে ‘ভালো আছি’ বলা একপ্রকার আত্মপ্রবঞ্চনা।
ভালো থাকা মানে কি শুধু আর্থিক স্বাচ্ছন্দ্য?
আবার কেউ কেউ মনে করেন, টাকা থাকলে সব ঠিক। হ্যাঁ, অর্থনৈতিক স্বাচ্ছন্দ্য ভালো থাকার একটা বড় উপাদান, কিন্তু একমাত্র নয়। অনেক ধনী মানুষই বিষণ্নতায় ভোগেন। বিপরীতে, সীমিত আয়ের মধ্যেও কেউ কেউ সুখে ও তৃপ্তিতে দিন কাটান। সুতরাং শুধু সম্পদ দিয়ে ভালো থাকার মানদণ্ড নির্ধারণ করা যায় না।
সামাজিক চাপ ও “ভালো থাকার” মুখোশ: আজকের সমাজে ‘ভালো থাকা’র একটা বাহ্যিক প্রতিযোগিতা চলছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে হাসিমুখের ছবি, চমকপ্রদ সাফল্যের গল্প-সব মিলিয়ে একটা ‘ভালো থাকার সংস্কৃতি’ গড়ে উঠেছে, যেখানে সবাই দেখায় যে তারা ভালো আছে। কিন্তু পর্দার আড়ালে লুকিয়ে থাকে হাজারো না-পাওয়া, বেদনা, অতৃপ্তি। আমাদের অনেকেই ‘ভালো আছি’ বললেও মনে মনে জানি, এই ভালো থাকাটা আসলে মুখোশ মাত্র।
তাহলে সত্যিকার ভালো থাকা কী?
ভালো থাকা মানে কেবল সমস্যা না থাকা নয়, বরং সমস্যার মাঝেও নিজের মানসিক স্থিতি বজায় রাখা। ভালো থাকা মানে-
নিজের প্রতি সদয় থাকা। পরিবার ও প্রিয়জনের সঙ্গে গভীর সংযোগ রাখা। মানসিক শান্তি অনুভব করা। সময়মতো ঘুম, সুষম আহার ও বিশ্রাম। নিজের সীমাবদ্ধতাকে মেনে নিয়ে এগিয়ে চলা। মানে সন্তুষ্ট থাকা। ছোট ছোট সুখের মুহূর্ত উপভোগ করা।ভালো থাকা মানে শুধু আনন্দ নয়, বরং বেদনার মধ্যেও সৌন্দর্য খুঁজে নেওয়া।
সত্যি করে বলতে গেলে-আমরা কেউই সবসময় পুরোপুরি ভালো থাকি না। কিন্তু সচেতনভাবে চেষ্টা করলে আমরা অন্তত কিছুটা ভালো থাকতে পারি। ভালো থাকা আসলে একটা যাত্রা, কোনো গন্তব্য নয়। এবং সেই যাত্রায় সবচেয়ে বড় সঙ্গী-নিজেকে জানা ও ভালোবাসা।
সুতরাং, আমরা কি ভালো আছি? হয়তো পুরোপুরি না। কিন্তু ভালো থাকার পথ খুঁজছি এটাই সবচেয়ে বড় আশার কথা।
