অনলাইন ডেস্ক
বাংলাদেশের বাজারে আমের মৌসুম মূলত মে থেকে জুলাই এইতিন মাস। মৌসুম অনুযায়ী বাজারে আম শেষ হওয়ার কথা থাকলেও এখনো পাওয়া যাচ্ছে সুস্বাদু এই ফল। তবে অল্প-স্বল্প নয়, বলা যায় আমে টইটম্বুর ঈশ্বরদীর ফল বাজার।
তবে অসময়ের এই বাজারেও ক্রেতাদের চাহিদা ও আগ্রহ রয়েছে যথেষ্ট।
মে থেকে জুলাই আমের ভরা মৌসুম হলেও সেপ্টেম্বরে এসে বাজারে ভরপুর আম দেখে অনেকেই বিষ্মিত ।
ক্রেতাদেরঅনেকেরই প্রশ্ন “অসমেয় এত আম এলো কোথা থেকে”?
ঈশ্বরদী বাজারের ফল বিক্রেতা মো: জানান, এখন বাজারে যে আম পাওয়া যাচ্ছে তার নাম -কাটিমন।
এটি বাংলাদেশী নয় থাইল্যান্ডের জাত। তবে বর্তমানে এশিয়ার বিভিন্ন দেশ বিশেষ করে বাংলাদেশ ও ভারতে এই আমের চাষ হচ্ছে ব্যাপক
হারে। এই আম বছরে ২ থেকে ৩ বার ফলন দেয় বলেও জানিয়েছেন স্থানীয় কৃষকরা।
দেশের বাজারে এই আমের চাহিদা মেটাচ্ছে রাজশাহী, চাঁপাইনবাবগঞ্জসহ দেশের বিভিন্ন জেলার আম চাষিরা। তবে সবচেয়ে বেশি চাষ করছেন রাজশাহী অঞ্চলের কৃষকরা।
ঈশ্বরদীস্থ ফল ব্যবসায়ীদের সূত্রে জানাযায়, রাজশাহীর তানোর উপজেলায় প্রায় ৫০ বিঘা জমিতে কাটিমন আমের বাগান
করেছেন আলামিন নামের এক কৃষক। তিনি জানান, মৌসুম শেষে অন্য জাতের আম শেষ হলেও কাটিমনের বাজার থাকে
জমজমাট। এতে আয়ও বেড়েছে আগের চেয়ে।
বাজারের আম বিক্রেতা সরল ফলভান্ডারের সরল ও সজীব বলেন, কাটিমন এখন দেশেই চাষ হচ্ছে। রাজশাহীতে বেশি চাষ হচ্ছে। প্রতিকেজি ২৫০ থেকে ২২০ টাকায় বিক্রি করছি।
ঈশ্বরদী বাজারের ভাই ভাই ফল ভান্ডারের বিক্রেতা রতন বলেন, চাঁপাইনবাবগঞ্জ ও রহনপুরে প্রচুর চাষ হচ্ছে কাটিমন
আম। মৌসুমের বাইরে এই আমের চাহিদা বেশি। খেতেও মিষ্টি। পাইকারিতে বেশি দরে কিনতে হচ্ছে বিধায় এখানে প্রতি
কেজি আম বিক্রি হচ্ছে ২২০ থেকে ২৫০ টাকায়।
বাজারে ফল কিনতে আসা ক্রেতা মাহফুজুর রহমান বলেন, আসমে বাজারে আম পাওয়া যাচ্ছে এটাই আনন্দের বিষয়।
স্বাদেও অতুলনীয়। তবে সিজনের তুলনায় বর্তমানে আমের দাম অনেক বেশী। দাম কিছুটা কম থাকলে আমরা স্বাচ্ছন্দ্যে ক্রয় করতে পারতাম।
বিশেষজ্ঞদের মতে, কাটিমন বাংলাদেশে কৃষির নতুন সম্ভাবনা তৈরি করেছে। ;সঠিক পরিচর্যা ও প্রশিক্ষণ নিশ্চিত করা
গেলে শুধু দেশীয় বাজার নয়, রফতানিতেও সাফল্য আসবে।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে শুধু রাজশাহীতেই প্রায় ৯০ হেক্টর জমিতে কাটিমন আম চাষ হচ্ছে।
বছরে উৎপাদন হচ্ছে প্রায় ৭০০ মেট্রিক টন। এছাড়া দেশের অন্যান্য জেলাতেও কমবেশি এ আমের বাগান গড়ে উঠছে।
