অনলাইন ডেস্ক
মরুভূমির বুকে টানা ৪০০ মিটার ছুটে চলেছে কৃত্রিম টোপ। মুহূর্তের মধ্যে ঝাঁপিয়ে পড়ছে প্রশিক্ষিত বাজপাখি। সময়ের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে চলছে দৌড়। এমন দৃশ্যে সৌদি আরবের রিয়াদের উত্তরাঞ্চলে চলছে বিশ্বের সবচেয়ে বড় বাজপাখি প্রতিযোগিতা ‘কিং আব্দুল আজিজ ফ্যালকনরি উৎসব ২০২৫’।
এই উৎসব চলবে আগামী ১০ জানুয়ারি পর্যন্ত। এতে সৌদি আরবসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের বাজপাখি ও প্রশিক্ষকেরা অংশ নিচ্ছেন।
আয়োজকরা জানিয়েছেন, এবারের উৎসবে মোট ১৩৯টি রাউন্ডে প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। পুরস্কার দেওয়া হবে ১ হাজার ১২টি। এসব পুরস্কারের মোট মূল্য ৩৮ মিলিয়ন সৌদি রিয়াল, যা প্রায় ১০ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের সমান।
উৎসবে দুটি প্রধান প্রতিযোগিতা রয়েছে। একটি হলো মিলওয়াহ লোর রেস বা বাজপাখির দৌড় প্রতিযোগিতা। যেখানে ৪০০ মিটার দূরত্বে বাজপাখির গতি ও নিয়ন্ত্রণ পরীক্ষা করা হয়।
বাজপাখিকে শুরুর পয়েন্টে মালিক বা প্রশিক্ষকের হাতে রাখা হয়। যেখানে তার চোখ ঢাকা থাকে। ট্র্যাকের শেষ প্রান্তে থাকে একটি লুর বা কৃত্রিম শিকার। যা টানা হয় যন্ত্রের সাহায্যে। সিগন্যাল পাওয়ার সঙ্গে বাজপাখির চোখ খুলে তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়। বাজপাখি দ্রুত উড়ে গিয়ে লুর ধরার চেষ্টা করে। যে বাজপাখি সবচেয়ে দ্রুত ও সঠিকভাবে লুর ধরে বা কাছে পৌঁছায়, সে জয়ী হয়।
দৌড় প্রতিযোগিতায় রয়েছে মালিক, অপেশাদার, পেশাদার ও অভিজাত নামে চারটি দক্ষতার স্তর। সৌদি ও আন্তর্জাতিক প্রতিযোগীদের জন্য আলাদা বিভাগে অংশগ্রহণের সুযোগও রয়েছে।
অন্য আরেকটি মাজায়েন সৌন্দর্য প্রতিযোগিতা, যেখানে পাখির গঠন, পালক ও সামগ্রিক নান্দনিকতা বিচার করা হয়।
এবারের উৎসবে নয়টি দেশ অংশ নিয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে উপসাগরীয় সহযোগিতা পরিষদের (জিসিসি) দেশগুলো ছাড়াও ইতালি, আয়ারল্যান্ড ও সিরিয়া। বাজপাখির অংশগ্রহণের সংখ্যার ভিত্তিতে এই উৎসব ইতোমধ্যে তিনটি গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ড অর্জন করেছে। এর ফলে এটি আনুষ্ঠানিকভাবে বিশ্বের সবচেয়ে বড় বাজপাখি উৎসবের স্বীকৃতিও পেয়েছে।
সৌদি ফ্যালকনস ক্লাবের মুখপাত্র ওয়ালিদ আল-তাওয়েল বলেন, এই উৎসব শুধু প্রতিযোগিতা নয়। এটি নতুন প্রজন্মের মধ্যে বাজপাখি পালনের ঐতিহ্য ও খেলাটির প্রতি আগ্রহ তৈরি করার একটি বড় উদ্যোগ। বেদুইন সংস্কৃতির গুরুত্বপূর্ণ অংশ বাজপাখি শিকার ও প্রশিক্ষণের ঐতিহ্যকে বিশ্বের সামনে তুলে ধরতেই এই আয়োজন।
সূত্র: আরব নিউজ, সৌদি ফ্যালকনস ক্লাব
