অনলাইন ডেস্ক
খুব স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠছে নিকোলাস মাদুরো পরবর্তী ভেনেজুয়েলা কি দীর্ঘ মেয়াদে মার্কিন উপনিবেশে পরিণত হচ্ছে? কোনো পুতুল সরকার বসে সেখানে যুক্তরাষ্ট্রের হুকুম তামিল করবে নাকি সরাসরি ওয়াশিংটনের তত্ত্বাবধানেই চলবে দেশটি? সেই প্রশ্নের উত্তরে পরিষ্কার কোনো রূপরেখা এখনো পাওয়া যায়নি।
তবে ভেনেজুয়োলার অভ্যন্তরীণ সম্পদ ও শাসনব্যবস্থা নিয়ে নিজের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
নিউইয়র্ক পোস্টকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, লাতিন আমেরিকার এই দেশটির মূল্যবান তেল ও প্রাকৃতিক সম্পদের সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করতে সেখানে সবার আগে আইন-শৃঙ্খলা এবং অর্থনৈতিক শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা প্রয়োজন।
দেশটিতে মার্কিন সামরিক হস্তক্ষেপের পর সৃষ্ট পরিস্থিতি নিয়ে কথা বলতে গিয়ে ট্রাম্প সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, বর্তমানে ভেনেজুয়েলায় কোনো নির্বাচন আয়োজন করা তার অগ্রাধিকার তালিকায় নেই। বরং একটি ব্যর্থ প্রায় রাষ্ট্রকে রক্ষা করতেই এই অভিযান চালানো হয়েছে।
ইরাক বা আফগানিস্তানের মতো দীর্ঘমেয়াদী যুদ্ধে জড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা উড়িয়ে দিয়ে ট্রাম্প বলেন, ভেনেজুয়েলাকে সঠিকভাবে পরিচালনা করা মার্কিন প্রশাসনের লক্ষ্য।
অন্যদিকে, ভেনেজুয়েলার সুপ্রিম কোর্ট দেশটির সার্বভৌমত্ব রক্ষায় ভাইস প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেজকে অন্তর্বর্তীকালীন রাষ্ট্রপ্রধান হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের নির্দেশ দিয়েছে। দায়িত্ব নিয়েই রদ্রিগেজ মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওর সাথে কথা বললেও তিনি স্পষ্ট করে দিয়েছেন, ভেনেজুয়েলা কখনোই কোনো সাম্রাজ্যের উপনিবেশ বা দাসে পরিণত হবে না। তবে রদ্রিগেজের এই অনমনীয় অবস্থানকে ভালো চোখে দেখছেন না ট্রাম্প।
আটলান্টিককে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প সরাসরি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, রদ্রিগেজ যদি সঠিক পথে না চলেন তবে তাকে কারাবন্দী নিকোলাস মাদুরোর চেয়েও বড় মূল্য দিতে হতে পারে। এমনকি এয়ারফোর্স ওয়ানে সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে ট্রাম্প অত্যন্ত বিতর্কিত মন্তব্য করে বসেন। সেখানে তিনি সরাসরি দাবি করেন, এখন থেকে ভেনেজুয়েলা মূলত যুক্তরাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণেই পরিচালিত হবে।
ট্রাম্পের এমন কঠোর অবস্থান এবং সরাসরি সামরিক হস্তক্ষেপের ঘটনায় বিশ্বজুড়ে তীব্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে। বিশেষ করে গ্লোবাল সাউথের দেশগুলো এবং ব্রিকস জোটের সদস্যরা বিষয়টিকে আন্তর্জাতিক আইনের চরম লঙ্ঘন হিসেবে দেখছে।
চীন এই অভিযানকে ‘আধিপত্যবাদী’ কর্মকাণ্ড হিসেবে অভিহিত করে তীব্র নিন্দা জানিয়েছে। প্রতিবেশী দেশ ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট লুইজ ইনাসিও লুলা দা সিলভা বলেছেন, ওয়াশিংটন এখানে সমস্ত গ্রহণযোগ্য সীমা অতিক্রম করেছে। রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই ল্যাভরভও ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্ট রদ্রিগেজের সাথে টেলিফোনে আলাপকালে ভেনেজুয়েলার প্রতি ক্রেমলিনের দৃঢ় সংহতি প্রকাশ করেছেন। তবে আন্তর্জাতিক চাপ সত্ত্বেও ট্রাম্প ভেনেজুয়েলার কোনো বিরোধী নেতা, এমনকি শান্তিতে নোবেলজয়ী মারিয়া করিনা মাচাদোকেও সমর্থন দিতে রাজি হননি।
সূত্র: আরটি
