অনলাইন ডেস্ক
পাহাড়ের মাথায় জমে থাকা বিশাল বরফের স্তর—যাকে বলা হয় হিমবাহ। এই হিমবাহ হঠাৎ যদি খুব দ্রুত এগোতে শুরু করে, তাহলে কী হতে পারে? বিজ্ঞানীরা বলছেন, এমন ঘটনা এখন আর কল্পনা নয়। বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে ইতিমধ্যে হাজার হাজার হিমবাহ হঠাৎ গতিতে ছুটে চলেছে। এতে মানুষ ও পরিবেশ—দুটোই বড় ঝুঁকিতে পড়ছে।
একটি নতুন গবেষণায় বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন, বিশ্বজুড়ে ৩ হাজার ১০০টির বেশি হিমবাহে এই অস্বাভাবিক গতি দেখা গেছে। এর মধ্যে অন্তত ৮১টি হিমবাহকে সবচেয়ে বিপজ্জনক হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এসব হিমবাহ হঠাৎ এগোলে বড় ধরনের ক্ষতি হতে পারে।
গবেষণাটি প্রকাশিত হয়েছে বিজ্ঞানবিষয়ক সাময়িকী ন্যাচার রিভিউস আর্থ এন্ড এনভাইরনমেন্ট (Nature Reviews Earth and Environment)-এ। গবেষণাটি করেছে যুক্তরাজ্যের University of Portsmouth। বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন, এসব হিমবাহ মূলত আর্কটিক অঞ্চল, এশিয়ার উঁচু পাহাড়ি এলাকা এবং দক্ষিণ আমেরিকার আন্দিজ পর্বতমালায় বেশি দেখা যাচ্ছে। সবচেয়ে বেশি হিমবাহের গতি বেড়েছে কারাকোরাম পর্বতমালায়।
বিজ্ঞানীদের ভাষায়, এই ধরনের হিমবাহকে বলা হয় ‘সার্জিং গ্লেসিয়ার’। অর্থাৎ যেসব হিমবাহ সাধারণ সময়ের তুলনায় হঠাৎ অনেক দ্রুত চলতে শুরু করে। একজন বিজ্ঞানী বিষয়টি সহজভাবে বোঝাতে বলেন, এসব হিমবাহ অনেক দিন ধরে বরফ জমিয়ে রাখে, ঠিক সঞ্চয়ের মতো। এরপর হঠাৎ করে খুব দ্রুত সব বরফ এগিয়ে দেয়। এতে বড় বিপদ তৈরি হয়।
গবেষণায় বলা হয়েছে, হিমবাহের এই হঠাৎ গতি বাড়ার পেছনে জলবায়ু পরিবর্তনের বড় ভূমিকা আছে। জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে কখন, কোথায় এবং কীভাবে এসব ঘটনা ঘটছে সবকিছুই বদলে যাচ্ছে।
এই ধরনের হিমবাহ ছয় ধরনের বড় ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। এর মধ্যে আছে—হিমবাহ হঠাৎ সামনে এগিয়ে যাওয়া, নদীর পথ বন্ধ হয়ে যাওয়া, হিমবাহের নিচ থেকে হঠাৎ পানি বেরিয়ে আসা (বন্যার মতো), বরফের বিশাল অংশ ভেঙে পড়া, বরফে বড় বড় ফাটল তৈরি হওয়া এবং বড় বরফখণ্ড ভেসে যাওয়ার ঝুঁকি।
গবেষকরা সতর্ক করে বলেছেন, এসব ঘটনা পাহাড়ি অঞ্চলের মানুষের জীবনকে সরাসরি প্রভাবিত করতে পারে। ঘরবাড়ি, রাস্তা ও বিদ্যুৎব্যবস্থা ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। কোনো কোনো ক্ষেত্রে প্রাণহানির আশঙ্কাও রয়েছে।
বিজ্ঞানীদের মতে, এখনই এসব হিমবাহের দিকে নজর দেওয়া জরুরি। সময়মতো সতর্ক হলে বড় ক্ষতি অনেকটাই এড়ানো সম্ভব।
