নিজস্ব প্রতিবেদক:
নদীর কলতান আর কবিতার ছন্দ যেখানে মিলেমিশে একাকার, সেখানেই রচিত হলো এক অপার্থিব অনুভূতির কাব্যগাথা। যান্ত্রিক শহরের কোলাহল ছেড়ে দূরে, শালগাঁও কালিসীমা স্কুল অ্যান্ড কলেজের কোল ঘেঁষে বয়ে চলা তিতাস নদীর তীরে ঈদের পরদিন এক অভূতপূর্ব ‘কবিতায় ঈদ আড্ডা’ অনুষ্ঠিত হয়েছে। পড়ন্ত বিকালের সোনাঝরা রোদ যখন তিতাসের বুকে খেলা করছিল, ঠিক তখন থেকেই শুরু হওয়া এই কবি সমাবেশ গোধূলি গড়িয়ে সন্ধ্যা অবধি এক মায়াবী আবেশ ছড়িয়ে দেয় উপস্থিত সবার হৃদয়ে।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া সাহিত্য একাডেমির সভাপতি, বরেণ্য কবি জয়দুল হোসেনের স্নিগ্ধ সভাপতিত্বে এই আয়োজনের মূল কারিগর ও সঞ্চালক ছিলেন কবি সৈম আকবর। তিতাসের শীতল হাওয়ায় যখন কবিরা তাদের হৃদয়ের গভীর থেকে উঠে আসা শব্দগুলো উচ্চারণ করছিলেন, তখন চারপাশের প্রকৃতিও যেন এক গভীর নিস্তব্ধতায় সেই পঙক্তিমালা পান করছিল। আড্ডায় স্বরচিত কবিতা পাঠের মাধ্যমে প্রাণের স্পন্দন জাগিয়ে তোলেন কবি এহসানুল ইয়াসিন, কবি রবিউল আলম নবী, কবি নূরে আলম চৌধুরী, কবি হেলাল উদ্দিন হৃদয়, কবি ইউনুস সরকার, কবি মাশরেকী শিপার, কবি শৌমিক সাত্তার, কবি আমির হোসেন, কবি রুদ্র মোহাম্মদ ইদ্রিস এবং কবি মনির ইসলাম শ্রাবণ প্রমুখ।
সভাপতির বক্তব্যে কবি জয়দুল হোসেন এক আবেগঘন আহ্বান জানিয়ে বলেন:
"কবিতা কেবল শব্দবিন্যাস নয়, এটি সমাজের দর্পণ। যতো বেশি কবিতা নিয়ে আলোচনা ও সমালোচনা হবে, আমাদের সাহিত্য ততটাই সমৃদ্ধ হবে।"
তিনি অত্যন্ত দৃঢ়তার সাথে কবিদের প্রতি আহ্বান জানান যেন তাদের কলম সমাজের অসংগতি আর অনৈতিকতার বিরুদ্ধে এক শক্তিশালী হাতিয়ার হয়ে ওঠে। আড্ডার প্রতিটি মুহূর্ত ছিল সৃজনশীলতার এক পরম উৎসব; যেখানে কবিরা তাদের একাধিক কবিতা পাঠের মাধ্যমে তিতাস পাড়ের শান্ত পরিবেশকে এক জীবন্ত কাব্যমঞ্চে রূপান্তর করেন। বিকেলের সেই আড্ডা শেষে যখন সবাই ঘরে ফিরছিলেন, প্রত্যেকের চোখেমুখে ছিল তৃপ্তির এক অনন্য আভা—যেন তিতাসের জল আর কবিতার প্রেম তাদের আত্মাকে নতুন করে সিক্ত করে দিয়ে গেল।
