নিজস্ব প্রতিবেদক॥ ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বুক চিরে প্রবাহিত তিতাস নদীতে প্রতিদিন দিন-রাত অবাধে চলাচল করছে অসংখ্য বালুবাহী বাল্কহেড। কোনো ধরনের তদারকি ছাড়াই চলা এসব বাল্কহেড প্রায়শই ধাক্কা দিচ্ছে কাউতলী এলাকার রেলসেতুর পিলারে, যা দেশের গুরুত্বপূর্ণ রেলযোগাযোগ ব্যবস্থার জন্য এক বড় হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। স্থানীয়রা জানান, বালুবাহী এসব বড় বড় নৌযান রাতে কোনো আলো না জ্বালিয়েই চলাচল করে। ফলে নদী পারাপারে ব্যস্ত সাধারন মানুষ ও ছোট নৌযান চালকদের জন্য তা হয়ে উঠেছে ভয়ঙ্কর। ছোট ট্রলার বা নৌকায় নদী পারাপার করতে গিয়ে প্রায়ই বড় ধরনের দুর্ঘটনার মুখোমুখি হতে হয়। একাধিক প্রত্যক্ষদর্শীর ভাষ্যমতে, সম্প্রতি একটি বাল্কহেড রেলসেতুর পিলারে ধাক্কা দেয়। যদিও বড় কোনো ক্ষতি হয়নি, তবে সামান্য চিড় ও কম্পন দেখা গেছে। তরী বাংলাদেশ এর আহবায়ক শামীম আহমেদ বলেন,”রাতের বেলা এইসব বাল্কহেড আগ বাড়িয়ে চলে আসে। কোনো আলো জ্বালায় না। মনে হয় কেউ দেখার নেই!” বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, নদীপথে এভাবে ভারী নৌযানের অনিয়ন্ত্রিত চলাচল শুধু রেলসেতুর অবকাঠামো নয়, বরং সামগ্রিক জননিরাপত্তাকেও হুমকির মুখে ফেলছে। বড় ধরনের দুর্ঘটনা না ঘটলে কর্তৃপক্ষ চোখ খুলছে না বলেও তারা অভিযোগ করেন। কী করা উচিৎ? এমন প্রশ্নের জবাবে শামীম আহমেদ বলেন, রেলসেতু সংলগ্ন এলাকায় নজরদারি বাড়ানো। রাতের বেলায় আলো ছাড়া নৌযান চলাচল সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা। প্রতিটি বাল্কহেডের রেজিস্ট্রেশন ও চালকের লাইসেন্স নিশ্চিত করা। নৌপথে নিয়ন্ত্রণ ও সিগন্যাল ব্যবস্থা জোরদার করা। স্থানীয় প্রশাসনের মাধ্যমে নিয়মিত মনিটরিং ব্যবস্থা চালু করারও দাবি জানান তিনি। তিতাস নদীতে একটি নৌ-পুলিশ ইউনিটের দাবী জানান তিনি।
