শ্রীপুর পৌর (গাজীপুর) প্রতিনিধি
গাজীপুরের শ্রীপুরে বিএনপি’র অধীনস্থ ৮টি ইউনিয়নের সদ্যঘোষিত আহ্বায়ক কমিটিতে দীর্ঘদিনের ত্যাগী ও পরীক্ষিত নেতাকর্মীদের বাদ দিয়ে আত্মীয় ও অযোগ্য ব্যক্তিদের অন্তর্ভুক্তির অভিযোগ তুলে সংবাদ সম্মেলন করেছেন উপজেলা বিএনপির একাধিক সিনিয়র নেতা।
বৃহস্পতিবার ১৮ সেপ্টেম্বর বেলা এগারোটার শ্রীপু টেংরা রাস্তা সংলগ্ন আয়োজিত এ সংবাদ সম্মেলনে প্রধান বক্তা হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের বর্ষীয়ান নেতা, গাজীপুর জেলা যুবদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও শ্রীপুর উপজেলা বিএনপির সহ-সভাপতি শেখ আব্দুল আজ্জাক।
তিনি বলেন, “১৯৮২ সাল থেকে আমি বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত। বরমী ইউনিয়ন যুবদলের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে রাজনৈতিক পথচলা শুরু করে দীর্ঘ ৪২ বছর নিষ্ঠা ও ত্যাগের সাথে দলের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেছি।
অথচ আজ আমার নিজ ইউনিয়নের আহ্বায়ক কমিটিতেও আমাকে স্থান দেওয়া হয়নি। এটি আমার রাজনৈতিক জীবনের সবচেয়ে বড় বেদনা।”
সিংগাইরে ৭৭টি পূজা মণ্ডপে শিল্পপতি অনিরুদ্ধ কুমার রায়ের আর্থিক অনুদান
সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন, ,শেখ ফরিদা জাহান স্বপ্না,যোদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা আবুল কাশেম বেপারী,মোঃ আলী জিন্নাহ্,মীর নুরে আঃহাই,ইকবাল হাসান কাজল,জহিরুল ইসলাম কাজল,নজরুল ইসলাম,কায়সার আহমেদ মৃধা খোকন প্রমুখ।
নেতৃবৃন্দ অভিযোগ করে বলেন, “নতুন কমিটিতে আত্মীয়করণ, চাটুকারিতা এবং আওয়ামী লীগের সাথে অতীতে সংশ্লিষ্ট ছিল এমন ব্যক্তিদের স্থান দেওয়া হয়েছে। ত্যাগী ও সক্রিয় নেতাকর্মীদের বাদ দিয়ে গঠন করা হয়েছে পকেট কমিটি। এতে দলীয় মনোবল ভেঙে পড়েছে।”
বিশেষভাবে অভিযোগ তোলা হয় কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সহ-স্বাস্হ্য বিষয়ক সম্পাদক ও গাজীপুর জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক ডা. রফিকুল ইসলাম বাচ্চুর বিরুদ্ধে। নেতারা বলেন, “দীর্ঘদিন বিদেশে অবস্থান শেষে দেশে ফিরে আত্মীয়তার প্রভাব খাটিয়ে তিনি উপজেলা ও ইউনিয়নের কমিটিগুলো নিজের মতো করে সাজিয়েছেন।
এমনকি যাদের অতীতে আওয়ামী লীগের রাজনীতির সাথে সংশ্লিষ্টতা ছিল, তারাও গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পেয়েছেন।”
তারা আরও বলেন, “শ্রীপুর বিএনপির প্রতিষ্ঠায় যারা জীবনের ঝুঁকি নিয়েছেন, সেইসব নেতা-কর্মীরা আজ অবহেলিত। প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি পীরজাদা মাওলানা এস এম রুহুল আমিন, জনাব মজিবুর রহমান সুলতান, মীর মোঃ নূর-এ-আলম হাই, এড.রফিকুল ইসলাম,জনাব মোঃ কাজিম উদ্দিন ফকিরসহ অনেক সিনিয়র নেতাকে আজকের কমিটিতে উপেক্ষা করা হয়েছে।”
নেতৃবৃন্দ তাদের বক্তব্যে শ্রীপুরের রাজনৈতিক অচলাবস্থার কথাও তুলে ধরেন। “এখন কেউ মুখ খুলে কথা বললেই বহিষ্কারের হুমকি দেওয়া হয়। দলের মধ্যে গণতন্ত্র নেই, দলীয় জনসমর্থন ক্রমেই কমে যাচ্ছে।”
সংবাদ সম্মেলনের শেষ পর্যায়ে নেতারা ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান ও কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দের দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলেন,“আমরা ত্যাগী ও পরীক্ষিত নেতাকর্মীদের পুনর্বাসনের দাবি জানাই। বিতর্কিতদের বাদ দিয়ে প্রকৃত বিএনপির কর্মীদের স্থান দিতে হবে।
এখনই শ্রীপুর বিএনপিকে রক্ষা করার সময়।” নেতারা সবাইকে আহ্বান জানান, “এই ক্রান্তিকালে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে দলের স্বার্থে কাজ করতে হবে এবং বিএনপির সোনালি অতীত ফিরিয়ে আনতে হবে।”
