নিজস্ব প্রতিবেদক॥ বিলুপ্ত ও বিলীন হয়ে যাওয়া দেশের নদীপথগুলো পুনরুদ্ধার এবং সচল করার আহ্বান জানিয়ে নদীপথে যাত্রা করছে সামাজিক সংগঠন ‘তরী বাংলাদেশ’। ‘তিতাস থেকে বুড়িগঙ্গা’-এই ব্যতিক্রমী শিরোনামে আয়োজিত কর্মসূচির আওতায় আগামী ২৪ অক্টোবর ব্রাহ্মণবাড়িয়ার ঐতিহ্যবাহী তিতাস নদী থেকে ঢাকার বুড়িগঙ্গা নদী পর্যন্ত একটি প্রতীকী যাত্রা শুরু হবে। পরদিন ২৫ অক্টোবর বুড়িগঙ্গা থেকে তিতাস নদীর উদ্দেশে যাত্রা করবে অংশগ্রহণকারী দল। নদীই পথ ছিল একসময়: আয়োজকদের পক্ষে তরী বাংলাদেশ এর আহবায়ক শামীম আহমেদ বলছেন, একসময় নদীই ছিল দেশের প্রধান যোগাযোগ ও পণ্য পরিবহনের মাধ্যম। নদীকেন্দ্রিক গ্রামীণ জীবন, হাটবাজার, সংস্কৃতি-সবকিছুই নদীর ওপর নির্ভরশীল ছিল। কিন্তু সময়ের সঙ্গে সঙ্গে খনন না হওয়া, দখল-দূষণ, অপরিকল্পিত উন্নয়ন ও সরকারি অবহেলার কারণে হাজার হাজার কিলোমিটার নৌপথ আজ মৃতপ্রায়। বহু নদী হারিয়ে গেছে মানচিত্র থেকে, অনেক নদী আজ অস্তিত্ব সংকটে। ‘তরী বাংলাদেশ’ চায় এই সংকটের দিকে জাতীয় দৃষ্টি আকর্ষণ করতে। তারা বলছে, শুধুই প্রতিবাদ নয়, নদীর পাড়ের মানুষ, সংস্কৃতি এবং নৌপথের সম্ভাবনা তুলে ধরতেই এই উদ্যোগ। প্রতীকী এই নদীযাত্রায় থাকবেন নদী গবেষক, সাংবাদিক, পরিবেশকর্মী, শিক্ষার্থী ও নদীপাড়ের সাধারণ মানুষ। আয়োজকেরা আরো জানিয়েছেন, নদীপথের এই যাত্রাটি শুধু ভ্রমণ নয়, এটি নদীর জন্য দাবি, সচেতনতার বার্তা ও সংস্কৃতির বহিঃপ্রকাশ। তরী বাংলাদেশ এর আহবায়ক শামীম আহমেদ বলছেন, “নদী বাংলাদেশের প্রাণ। আমরা চাচ্ছি মানুষ নদীকে নিয়ে নতুন করে ভাবুক। হারিয়ে যাওয়া নদীগুলো শুধু পানি নয়, একটি অঞ্চল, একটি সংস্কৃতি ও একটি প্রজন্মের ইতিহাস হারিয়ে যাওয়ার শঙ্কায় আছে।”তিনি আরও বলেন, “আমরা চাই, সরকার জাতীয়ভাবে নৌপথ পুনরুদ্ধার ও নদী সচল করার একটি সুদূরপ্রসারী কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করুক। যেন একসময় আবার নৌপথ হয় দেশের প্রাণভিত্তিক যোগাযোগের মাধ্যম।” তারা বলছেন, এই অভিযাত্রার মূল বার্তা হলো: বিলুপ্ত নৌপথ পুনরুদ্ধার চাই। নদী হোক পরিচ্ছন্ন, সচল ও জনবান্ধব। নদী দখলমুক্ত বাংলাদেশ চাই।নৌপথ হোক পরিবেশবান্ধব বিকল্প যোগাযোগ মাধ্যম। সরকার ও প্রশাসনের সহযোগিতা কামনা। আয়োজকেরা জানিয়েছেন, এই কর্মসূচিতে অংশ নিতে ইতোমধ্যেই নদীবিষয়ক গবেষক, শিক্ষক, পরিবেশ আন্দোলনের সংগঠক ও বিভিন্ন জেলার স্থানীয় সংগঠনগুলো যোগাযোগ করছে। তারা নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়, পরিবেশ অধিদপ্তর ও স্থানীয় প্রশাসনের সহযোগিতা প্রত্যাশা করছেন যাতে কর্মসূচিটি সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন হয়। বাংলাদেশে বর্তমানে প্রায় ২৪,০০০ কিলোমিটার অভ্যন্তরীণ নৌপথ ছিল বলে দাবি করলেও ব্যবহারযোগ্য পথ কমে এসে দাঁড়িয়েছে মাত্র ৬,০০০ কিমি’র কম। এই হারানো নৌপথ পুনরুদ্ধার করা গেলে দেশের পণ্য পরিবহন খরচ কমবে প্রায় ৪০ শতাংশ, যানজট কমবে, কার্বন নিঃসরণ হ্রাস পাবে এবং নদীকেন্দ্রিক জীববৈচিত্র্য রক্ষা পাবে।
