অনলাইন ডেস্ক
জাতীয় স্বার্থের বিরুদ্ধে কাজ করার অভিযোগ এনে জাতিসংঘসহ ৬৬টি আন্তর্জাতিক সংস্থা ও চুক্তি থেকে যুক্তরাষ্ট্রের নাম প্রত্যাহারের ঘোণা দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এই ঘোষণার পর কড়া জবাব দিয়েছে জাতিসংঘ।
সংস্থাটি জানিয়েছে, জাতিসংঘকে চাঁদা দেওয়া কোনো দয়া নয়, বরং এটি যুক্তরাষ্ট্রের ‘আইনি বাধ্যবাধকতা’। যুক্তরাষ্ট্রকে তাদের পাওনা পরিশোধ করতে বাধ্য। পাওনা পরিশোধ না করলে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে তার ভোটাধিকার হারাতে পারে।
স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার (৮ জানুয়ারি) জাতিসংঘের নিয়মিত বাজেট এবং শান্তিরক্ষা বাজেটে মূল্যায়নকৃত অবদান নিয়ে আলোচনায় অংশ নিয়ে জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসের মুখপাত্র স্টিফেন দুজারিক সাংবাদিকদের সাথে কথা বলেন।
তিনি বলেন, জাতিসংঘ সনদের নিয়ম অনুযায়ী, প্রত্যেক সদস্য দেশকে তাদের নির্ধারিত চাঁদা দিতেই হবে। যুক্তরাষ্ট্রও এর বাইরে নয়। এটা কোনো ঐচ্ছিক বিষয় নয়, বরং আন্তর্জাতিক আইন। তিনি আরও জানান, আমেরিকা অর্থ দেওয়া বন্ধ করলেও জাতিসংঘ বসে থাকবে না। যারা এই সংস্থাগুলোর ওপর নির্ভরশীল, তাদের সেবা দিয়ে যাবে তারা।
বর্তমানে জাতিসংঘের নিয়মিত বাজেটের সবচেয়ে বড় অংশ (২২ শতাংশ) দেয় যুক্তরাষ্ট্র। কিন্তু বর্তমানে সংস্থাটির কাছে যুক্তরাষ্ট্রের বকেয়া পড়ে আছে প্রায় ১৫০ কোটি ডলার। জাতিসংঘের নিয়ম অনুযায়ী, কোনো দেশ যদি দীর্ঘ সময় চাঁদা না দেয়, তবে তারা সাধারণ পরিষদে তাদের ভোট দেওয়ার অধিকার হারাবে।
দ্বিতীয় মেয়াদ দায়িত্ব গ্রহণের পর ট্রাম্প আনুষ্ঠানিকভাবে জাতিসংঘের মতো আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলির জন্য কোটি কোটি ডলার মূল্যের সাহায্য এবং তহবিল বন্ধ করার ঘোষণা দিয়েছিলেন। এরপর ফ্রান্স এবং যুক্তরাজ্যের মতো অন্যান্য দেশও তাদের মানবিক তহবিল খতিয়ে দেখছে, কিছু দেশ তহবিল সামরিক ব্যয়ের দিকে ঠেলে দিচ্ছে।
সূত্র: রয়টার্স।
