রায়পুর প্রতিনিধি:
লক্ষ্মীপুরের সুপরিচিত ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান ‘মোহাম্মদীয়া হোটেল’-এর মালিকের ছেলে সাকিবের অকাল মৃত্যুতে এলাকায় গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে। প্রাথমিকভাবে বিষয়টিকে আত্মহত্যা বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে এই মৃত্যু কেবল একটি জীবনের অবসান নয়, বরং রেখে গেছে একরাশ প্রশ্ন আর শোকাতুর একটি পরিবার।
সাময়িক সংকটে স্থায়ী সিদ্ধান্ত সমাধান নয়
জীবন মহান আল্লাহর পক্ষ থেকে দেওয়া এক অমূল্য নেয়ামত। মানুষের জীবনে চড়াই-উতরাই, কষ্ট কিংবা চরম হতাশার মুহূর্ত আসতেই পারে। কিন্তু আমাদের মনে রাখতে হবে:
অন্ধকারের পরেই আলো: প্রতিটি দীর্ঘ রাতের পরেই একটি সুন্দর ভোরের আগমন ঘটে।
ভুল সমাধান: জীবনের সাময়িক কোনো সমস্যা বা আবেগের বশবর্তী হয়ে নেওয়া স্থায়ী সিদ্ধান্ত (আত্মহত্যা) কখনোই কোনো সংকটের সঠিক সমাধান হতে পারে না।
একটি মৃত্যু, আজীবনের হাহাকার
আত্মহত্যা কেবল একটি প্রাণের ইতি ঘটায় না, বরং এটি একটি পরিবারকে সারাজীবনের জন্য অপরাধবোধ, অনুতাপ এবং সীমাহীন মানসিক যন্ত্রণার সাগরে ভাসিয়ে দেয়। সাকিবের এই চলে যাওয়া আমাদের আবারও মনে করিয়ে দিচ্ছে মানসিক স্বাস্থ্যের প্রতি গুরুত্ব দেওয়ার প্রয়োজনীয়তা।
“সহায়তা চাওয়া কোনো দুর্বলতা নয়; বরং এটিই সচেতনতা এবং সাহসের সবচেয়ে বড় পরিচয়।”
আমাদের করণীয়: পাশে থাকুন, কথা বলুন
আপনার পরিচিত কেউ যদি কষ্টে থাকেন বা আপনি নিজে যদি বিষণ্ণতা অনুভব করেন, তবে নীরব থাকবেন না।
পরিবার ও বন্ধুর সাথে শেয়ার করুন: মনের বোঝা হালকা করতে কাছের মানুষের সাথে প্রাণ খুলে কথা বলুন।
বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন: প্রয়োজনে মানসিক রোগ বিশেষজ্ঞ বা কাউন্সেলরের সহায়তা নিতে দ্বিধা করবেন না।
ধৈর্য ধারণ করুন: কঠিন সময়ে আল্লাহর ওপর ভরসা রাখুন এবং ধৈর্য ধরুন।
আল্লাহ তায়ালা সাকিবকে ক্ষমা করুন এবং তার পরিবারকে এই শোক সইবার শক্তি দান করুন। আমাদের সমাজকে এমন মর্মান্তিক ঘটনা থেকে হেফাজত করুন। আমীন। 🤲
