অনলাইন ডেস্ক:
রমজান মাস এলেই ধর্মপ্রাণ মানুষের পাতে খেজুরের চাহিদা বেড়ে যায় বহুগুণ, যার মধ্যে স্বাদ আর পুষ্টির জন্য সবার মন জয় করে নিয়েছে রাজকীয় ‘মেডজুল’ খেজুর। কিন্তু এই প্রিয় ফলটিকে ঘিরেই এখন দানা বাঁধছে একরাশ সংশয় আর চাপা হাহাকার। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলো বলছে, বিশ্ববাজারে বিক্রি হওয়া মেডজুল খেজুরের বড় একটি অংশই আসে ইসরায়েল থেকে, যার অনেকটা উৎপাদিত হয় ফিলিস্তিনের দখলকৃত ভূমি জেরিকোর বিতর্কিত এলাকায়। ফিলিস্তিনি কৃষকদের দাবি, তাঁদের নিজেদের ভিটেমাটি থেকে উৎপন্ন এই ফলটি জর্ডান বা অন্যান্য অঞ্চলের নাম দিয়ে মোড়কজাত করে আসল পরিচয় আড়াল করা হচ্ছে। ইউরোপীয় আইনের কড়া নির্দেশনা থাকা সত্ত্বেও বিভিন্ন দেশ হয়ে পুনরায় প্যাকেট করার এই ‘লুকোচুরি’ সাধারণ ক্রেতাদের চরম বিভ্রান্তিতে ফেলে দিচ্ছে। পরিসংখ্যান বলছে, ২০২৬ সালে খেজুরের বৈশ্বিক বাজার যখন ৩৪ দশমিক ৫ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছাতে যাচ্ছে, তখন নৈতিকতা আর আইনি লড়াইয়ের প্রশ্নটি আরও বড় হয়ে দেখা দিয়েছে। বছরে ৩৫ হাজার টন খেজুর রপ্তানি করলেও স্বীকৃত সীমার ভেতরে ইসরায়েলের উৎপাদন মাত্র ৮ হাজার ৮০০ টন। এই বিশাল পার্থক্যের প্রতিটি দানা হয়তো বয়ে আনছে সেই ফিলিস্তিনিদের দীর্ঘশ্বাস, যাদের নিজেদের জমি থেকেই উৎপাদিত ফসল আজ নাম ভাঁড়িয়ে বিক্রি হচ্ছে বিশ্বজুড়ে।
