মোহাম্মদ ইদরীস
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সাধারণ মানুষের পাতের খাবারকে বিষাক্ত করে তোলার এক ঘৃণ্য অপচেষ্টা রুখে দিল স্থানীয় প্রশাসন। রোববার (০৫ এপ্রিল) সদর উপজেলাধীন আনন্দ বাজারে এক শ্বাসরুদ্ধকর মোবাইল কোর্ট অভিযানে জব্দ করা হয়েছে জনস্বাস্থ্যের জন্য চরম ঝুঁকিপূর্ণ বিপুল পরিমাণ জেলিযুক্ত চিংড়ি।
গোপন সংবাদের ভিত্তিতে আনন্দ বাজারে যখন এই অভিযান শুরু হয়, তখন চারদিকে এক চাঞ্চল্যকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) নাসরিন-এর নেতৃত্বে পরিচালিত এই অভিযানে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তাও। তবে আশ্চর্যের বিষয় হলো, প্রশাসনের আগমনের খবর পেয়ে অসাধু ব্যবসায়ী তার রক্তঘাম করা মুনাফার মোহে সাধারণ মানুষের জীবনকে ঝুঁকির মুখে ফেলে মাছগুলো রেখেই পালিয়ে যায়। যে হাত দিয়ে মানুষের মুখে বিষ তুলে দেওয়ার প্রস্তুতি চলছিল, সেই হাতগুলো লোকচক্ষুর অন্তরালে গা ঢাকা দিলেও ফেলে রেখে যায় তাদের অপরাধের প্রমাণ।
অভিযান চলাকালীন প্রায় ৬০ কেজি জেলিযুক্ত চিংড়ি মাছ জব্দ করা হয়। আধুনিক ও চাকচিক্যময় দেখানোর আড়ালে এই চিংড়িগুলোর ভেতরে সুকৌশলে ঢুকিয়ে দেওয়া হয়েছিল ক্ষতিকর জেলি, যা মানবদেহের জন্য নীরব ঘাতকের মতো। প্রশাসনের কঠোর নির্দেশে উপস্থিত সাধারণ মানুষের সামনেই সেই বিষাক্ত মাছগুলো আগুনে পুড়িয়ে ছাই করে দেওয়া হয়। আগুনের শিখায় যখন মাছগুলো পুড়ছিল, তখন উপস্থিত উৎসুক জনতার চোখেমুখে ছিল যেমন স্বস্তি, তেমনি ছিল ক্ষোভ—কীভাবে সামান্য কিছু টাকার লোভে মানুষের জীবন নিয়ে এমন ছিনিমিনি খেলা হয়!
সহকারী কমিশনার (ভূমি) নাসরিন গণমাধ্যমকে জানান, জনগণের স্বাস্থ্য সুরক্ষা নিশ্চিত করতে এমন অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে। অসাধু ব্যবসায়ীরা পালিয়ে গেলেও তাদের এই অপতৎপরতা কোনোভাবেই বরদাশত করা হবে না।
আজকের এই অভিযান যেন কেবল একটি প্রশাসনিক পদক্ষেপ নয়, বরং যারা খাদ্যে ভেজাল মিশিয়ে মানুষের জীবন নিয়ে জুয়া খেলে, তাদের বিরুদ্ধে এক জ্বলন্ত প্রতিবাদ। আনন্দ বাজারের আকাশ যখন সেই বিষাক্ত চিংড়ি পোড়া ধোঁয়ায় আচ্ছন্ন ছিল, তখন সাধারণ মানুষের মনে এক নতুন আশার সঞ্চার হয়েছে—প্রশাসন সজাগ থাকলে অন্তত বিষমুক্ত খাবার নিয়ে ঘরে ফেরা সম্ভব।
