জেলা প্রতিনিধি :মানিকগঞ্জ , :
মানিকগঞ্জ জেলার হরিরামপুর উপজেলার সুতালড়ি ও লেছরাগঞ্জ ইউনিয়নের সরকার কর্তৃক ইজারাকৃত বালু মহালকে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিন ধরে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, খান এন্টারপ্রাইজ নামের একটি প্রতিষ্ঠান ইজারার নির্ধারিত সীমানার বাইরে গিয়ে ব্যাপকভাবে বালু উত্তোলন করছে। অভিযোগ রয়েছে, আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে যেভাবে এই কার্যক্রম চলছিল, সরকার পরিবর্তনের পরও একইভাবে তা অব্যাহত রয়েছে।
স্থানীয়দের ভাষ্যমতে, সরকারি অনুমোদিত সীমানা অতিক্রম করে আশপাশের উর্বর কৃষিজমি, আবাদি জমি এবং ফসলি মাঠ থেকে বালু উত্তোলন করা হচ্ছে। এতে কৃষিজমি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে, পরিবেশের ভারসাম্য নষ্ট হচ্ছে এবং কৃষকরা আর্থিকভাবে চরম ক্ষতির মুখে পড়ছেন। অভিযোগ রয়েছে, এভাবে একটি অসাধু চক্র কোটি কোটি টাকার অবৈধ বাণিজ্য পরিচালনা করছে।
এই অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধ, কৃষিজমি রক্ষা এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবিতে বৃহস্পতিবার সকাল ১০টায় মানিকগঞ্জ জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।
মানববন্ধনে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ, ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক, স্থানীয় বাসিন্দা, শিক্ষার্থী এবং বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের অগ্রণী ভূমিকা পালনকারী মেহরাব হোসেন অংশগ্রহণ করেন। বক্তারা বলেন, অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের কারণে প্রতিবছর শত শত বিঘা উর্বর জমি নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। কৃষকরা তাদের জীবিকার একমাত্র অবলম্বন হারাচ্ছেন, অথচ সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না।
বক্তারা আরও অভিযোগ করেন, ইজারার শর্ত লঙ্ঘন করে সীমানার বাইরে বালু উত্তোলন করা হলেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নজরদারির ঘাটতির কারণে অবৈধ কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। তারা দ্রুত তদন্ত করে প্রকৃত দোষীদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানান।
মানববন্ধন থেকে অংশগ্রহণকারীরা কয়েকটি দাবি তুলে ধরেন। এর মধ্যে রয়েছে—
ইজারার সীমানার বাইরে সব ধরনের বালু উত্তোলন অবিলম্বে বন্ধ করতে হবে।
ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের ফসলি জমি রক্ষায় কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে।
অবৈধ বালু উত্তোলনের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।
পরিবেশ ও কৃষিজমি ধ্বংসের জন্য দায়ীদের জবাবদিহির আওতায় আনতে হবে।
ভবিষ্যতে যেন কোনোভাবেই কৃষিজমি ধ্বংস করে বালু উত্তোলন করা না যায়, সে জন্য নিয়মিত প্রশাসনিক নজরদারি নিশ্চিত করতে হবে।
মানববন্ধন শেষে আন্দোলনকারীরা জেলা প্রশাসকের কাছে একটি স্মারকলিপি দেওয়ার আহ্বান জানান এবং দাবি পূরণ না হলে আরও কঠোর কর্মসূচির ঘোষণা দেওয়ার হুঁশিয়ারি দেন।
এলাকাবাসীর প্রত্যাশা, প্রশাসন দ্রুত বিষয়টি তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করবে এবং কৃষকের উর্বর ফসলি জমি রক্ষায় কার্যকর পদক্ষেপ নেবে।
